ক. ইস্তিহাযার জাদুর লক্ষণ
১। মাসিক স্রাব ৩ দিনের কম বা ১০ দিনের বেশি হওয়া। আর এরকম সমস্যা কয়েক মাস হওয়া।
২। সর্বদা স্রাব প্রবাহিত হওয়া।
৩। স্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়া। (বয়সের কারণে নয়)
৪। সাদাস্রাব (Leucorrhoea)
৫। স্রাবের সময় অতিরিক্ত ব্যথা-বেদনা থাকা।
৬। ঠিকমত ঘুম না হওয়া। ঘনঘন বোবায় ধরা বা বাজে স্বপ্ন দেখা।
৭। অতিরিক্ত পরিমাণে রক্তস্রাব হওয়া।
৮। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হওয়া। বিশেষতঃ ব্যাকপেইন, কিংবা লজ্জাস্থানে ব্যথা। অধিকাংশ সময়েই মাথাব্যথা করা।
এগুলোর পাশাপাশি জিন-আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ এবং জাদুর সাধাবণ লক্ষণগুলোর সাথেও মিল পাওয়া যেতে পারে।
আরেকটা বিষয় হল, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রসাবের ইনফেকশন হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।
খ. ইস্তিহাযার জন্য রুকইয়াহ
সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন এরপর নিচের প্রেসক্রিপশন নিজে অনুসরণ করুন অথবা
রোগীকে অনুসরণ করতে বলুন। রোগীকে অনুসরণ করতে বলুন। এক মাস পর অবস্থা জানাতে বলুন, ইনশাআল্লাহ সমস্যা ভালো হয়ে যাবে, প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ করে অন্যান্য পরামর্শগুলো অনুসরণ করতে বলুন।
গ. চিকিৎসা
প্রথমে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আরাফ ১১৭-১২২, সূরা ইউনুস: ৮১-৮২,
সূরা ত্বহা: ৬৯, ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে পানিতে (সম্ভব হলে সাথে মধুতে) ফুঁ
দিন।
এরপর ৬টি আয়াতে শিফা তিনবার করে পড়ে ফুঁ দিন সূরা তাওবাহ: ১৪, সূরা ইউনুস:
৫৭, নাহল: ৬৯, বনী ইসরাঈল: ৮২, শুআরা। ৮০, হা-মীম সাজদা ৪৪। (আয়াতগুলো আগের
অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে)
১. এই পানি প্রতিদিন দুইবেলা খাবেন। (মধু থাকলে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিবেন)
২. গোসলের পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন অথবা একদিন পরপর গোসল করবেন।
৩. পাশাপাশি কোনো কারীর সাধারণ রুকইয়াহ একবার অথবা আধাঘন্টা আয়াতুল কুরসীর
রুকইয়াহ শুনবেন। এছাড়া রুকইয়াহ যিনা-ও এই সমস্যায় বেশ উপকারী।
৪. যদি তিন-চার সপ্তাহ এভাবে রুকইয়াহ করার পরও সম্পূর্ণ সমস্যা ভালো না হয়,
তবে ৭ দিনের ডিটক্স রুকইয়াহ করুন। অথবা আরেকটি কাজ করতে পারেন, সুরা
আনআমের ৬৭ নম্বর আয়াতের প্রথমাংশ-
প্রতিটি খবরের জন্য একটি স্থিতিশীল আছে
হালাল ফুডগ্রেড কালি দিয়ে কাগজে বা পাত্রে লিখে সেটা পানিতে গুলিয়ে দুই
থেকে তিন সপ্তাহ সেবন করলে ইনশাআল্লাহ সমস্যা ভালো হয়ে যাবে। আর এটাও
রুকইয়ার জায়িয পদ্ধতি। যেমন: ইবনু তাইমিয়া রহ. বলেছেন-
আহত ব্যক্তি এবং অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর কিতাব থেকে কিছু
লেখা এবং তাকে উপলব্ধ কালি স্মরণ করিয়ে দেওয়া জায়েজ, এবং তাকে ধুয়ে
পানি দেওয়া উচিত, যেমনটি আহমাদ এবং অন্যরা বলেছেন।
অসুস্থ ব্যক্তি বা অন্যদের জন্য আল্লাহর কালাম অথবা আল্লাহর যিকির
থেকে সাধারণ কালি দ্বারা কিছু লেখার বৈধতা বয়েছে। এরপর সেটা ধুয়ে পান
করাবে। যেমনটা এ ব্যাপারে মাম আহমাদ রহ-সহ অন্যরা স্পষ্ট বলেছেন।
পরামর্শ: এক্ষেত্রে খাবার উপযোগী কালি না পেলে কোন ফুল বা ফলের রস, অথবা ভিটামিন সিরাপ ব্যবহার করে লেখা যেতে পারে।
ঘ. লক্ষণীয়
ক. একটি বিষয় লক্ষণীয়ঃ যদি কয়েকসপ্তাহ রুকইয়াহ করার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি দেখতে না পান, তবে অবশ্যই এর পাশাপাশি কোনো দ্বীনদার ডাক্তারের চিকিৎসা নেবেন। কেননা হঠাৎ করে ওজনের হ্রাস-বৃদ্ধি, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেও এমন কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই উদ্বিগ্ন না হয়ে সমস্যার পেছনের কারণ চিহ্নিত করুন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সহায়তা নিন।
খ. আর অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে হিজামা করাতে পারেন। ইস্তিহাযার সমস্যায় হিজামা থেরাপি (cupping) খুবই উপকারি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইস্তিহাযা-সংক্রান্ত ফিকহি বিধিবিধান বেশ দীর্ঘ। সেগুলো এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিকও নয়। এর জন্য আহকামে নিসা, ফিকহুন নিসা, আহকামে যিন্দেগী বা এ ধরনের কোনো গ্রন্থ দেখুন অথবা পরিচিত ভালো আলেমের থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।