কোর্স / কোর্স বিবরণ

আসক্ত করার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা

  • Super admin image

    By - Super admin

  • ৩০ Min
  • (0)

কোর্স বর্ণনা

আসক্ত করার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা

আসক্ত বা বশ করার জাদু এই সমাজে প্রচলিত সবচেয়ে জঘন্য জাদুগুলোর একটি হচ্ছে "আসক্ত বা ব জানু'। অর্থাৎ জাদুর মাধ্যমে কাউকে নিজের প্রতি আসক্ত বা অনুগত বানিয়ে নেওয়া। এটি সাধারণত পরিচিতজনদের মধ্যে কেউ করে থাকে। কখনো সন্দেহপ্রবণ স্ত্রী জাদু করে। কখনো-বা সম্পদের লোভে পুত্র বা রক্ত সম্পর্কের কেউ করে। এই জাদুর সবচেয়ে জঘন্য ব্যবহার হচ্ছে, কাউকে জোর করে বিয়ে করার জন্য এই জাদু হয়। কখনো তাবীজের নামে, কখনো তদবীরের নামে, কখনো-বা দুআ- কালামের নামে ভণ্ড কবিরাজরা সামান্য টাকার লোভে এই জাদু করে থাকে। সাধারণ মানুষ ইসলামী ওযীফা ভেবে গ্রহণ করে, দুনিয়া এবং আখিরাতে সর্বনাশ করে। তবে এই জাদু সবচেয়ে বেশি করে 'হিংসুক স্ত্রী এবং শাশুড়িরা। স্ত্রী জাদু করে এজন্য যে, স্বামী যেন শুধু তার কথাই শোনে অন্য কারও কথা না শোনে, আর শাশুড়ি নিজ ছেলেকে জাদু করে, যেন ছেলে স্ত্রীর কথা না শুনে শুধু মায়ের কথা শুনে।। প্রিয় পাঠক, খেয়াল রাখা উচিত, এটা অনেক বড় গুনাহ। শুধু গুনাহই নয়; বরং ঈমান বিধ্বংসী একটি কাজ। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, নিশ্চায় মন্ত্রপাঠ, তাবীজ-কবচ এবং বশ করার জাদু শিরকের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আমাদের সাবধান হওয়া উচিত। তবে এই আলোচনাতেও আমরা স্বামী-স্ত্রীর কথা উল্লেখ করে বলব। পাঠক সে অনুযায়ী অন্যদের সাথে মিলিয়ে নেবেন।

  বশ করার জাদুর লক্ষণ

১. সবসময় স্ত্রীর চিন্তা মাথায় ঘোরা, অন্যকিছুতে মন দিতে না পারা।

২. সবসময় স্ত্রীকে দেখতে ইচ্ছা হওয়া, বাড়ির বাইরে থাকতে না পারা। বাড়িতে থাকলে সারাদিন স্ত্রীর পিছুপিছু ঘোৱা।

৩. যখন-তখন স্ত্রীর সঙ্গে শুধু সঙ্গম করতে ইচ্ছে হওয়া। সারাদিনে এই চিন্তা মাথায় ঘোরা। সহবাসের ব্যাপারে অধৈর্য হয়ে যাওয়া।

৪. বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই কারও প্রতি অতিরিক্ত অনুরক্ত হয়ে যাওয়া।

৫. যাকে পছন্দ করতেন না বা পাত্তা দিত না, হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই তার প্রতি তীব্র ভালোলাগা শুরু হয়ে যাওয়া।

৬. কোনো বাছ-বিচার ছাড়াই স্ত্রীর কথা অন্ধের মতো মানতে শুরু করা। পরে যদিও-বা কখনো এটা বুঝতে পারে, তারপরও অজানা কারণে তার প্রতি নিজেকে বাধ্য মনে হওয়া।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, প্রচলিত জাদুগুলোর মধ্যে এই জাদুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উল্টাপাল্টা প্রভাব হয়।  যেমন   

১. কখনো আসক্ত হওয়ার বদলে বিরক্তিকর মনোভাব বেড়ে যায়। এমনকি অনেক সময় সকল মেয়ে মানুষের প্রতি ঘৃণা চলে আসে।

২. এই বিপরীত প্রভাবের জন্য কেউ হুট করে বউকে তালাকও দিয়ে দেয়।

৩. কখনো স্ত্রী বাদে বাকি সবাই যেমন: ভাই-বোন, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনদের প্রতি বিদ্বেষী হয়ে যায়।

৪. এর প্রভাবে মানুষ কখনো একদম পাগল হয়ে যায়। কেউ একদম পাগল না হলেও প্রায় পাগলের মতো আচরণ করে।

৫. এর প্রভাবে কখনো মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়। তখন কাজকর্ম তো দূরের কথা, বিছানা থেকেই উঠতে পারে না। আর এজন্য ডাক্তারের চিকিৎসা করেও তেমন কোনো উপকার হয় না।

৬. এর প্রভাবে কোন অবিবাহিত মেয়ে বা স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে যার জন্য আসস্তি হওয়ার জন্য জাদু করা হয়েছে তার কাছে চলে যেতে পারে।

  আসক্ত বা বশ  করার জাদুর জন্য কুরাানিক চিকিৎসা

১. রুগীর কাছে বসে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন।

সুরা ইসরা ৮২


সাথে সুরা তাগাবুন এর ১৪, ১৫, ১৬ এই তিন আয়াত যোগ করুন। রুকইয়ার মধ্যে কোরআন এর ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সুরা হাশরের ৪ আয়াত পড়া শেষে এগুলো পড়তে পারেন, অথবা একদম শুরুতে বা শেষেও পড়তে পারেন, এটা তেমন কোনো বিষয় না। তো যদি সমস্যা থাকে তবে খুব অস্বস্তি বোধ করবে, খুব মাথাব্যথা, বুকে ব্যাথা, পেটব্যাথা করতে পারে, বমি বমি লাগতে পারে, এই যাদুর আক্রান্ত হলে কখনো শরীর প্রায় অবশ হয়ে আসে… এরকম কিছু হলে বুঝে নিতে হবে যাদু আক্রান্ত।

২. তখন “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। সাথেসাথেই যদি বমি হয়, তবে বেশ ভালো কথা আশা করা যায় অল্প কদিনেই একদম ভালো হয়ে যাবে। এরপর প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন এবং ৩ সপ্তাহ পর আবার দেখা করতে বলুন।

৩. তিন সপ্তাহ পর আবার শুরু থেকে রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যার একদম ভালো হয়ে গেলে তো আলহামদুলিল্লাহ! হয়েই গেলো, আর পুরাপুরি ভালো না হলে তো বুঝতেই পারবেন, আবার সেইম প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন। ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে।

গ. প্রেসক্রিপশন একটা বোতলে পানি নিয়ে আয়াতুল কুরসী, সূরা আরাফ: ১১৭-১২২, সূরা ইউনুস: ৮১- ৮২, সূরা ত্বহা: ৬৯, সূরা তাগাবুন: ১৪-১৬ আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন।

এরপর চাইলে উপরের আয়াতগুলোও পড়তে পারেন।

১. তিন সপ্তাহ সকাল-বিকাল এই পানি খাবেন। মাঝেমাঝে গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করবেন।

২. প্রতিদিন অন্তত একঘণ্টা রুকইয়াহ শুনবেন। এক্ষেত্রে কোনো সাধারণ রুকইয়াহ এবং সূরা তাগাবুন কয়েকবার শুনতে পারেন। সম্ভব হলে নিজে তিলাওয়াত করুন। সময় কম থাকলে শুধু সুরা তাগাবুন কয়েকবার পড়তে বা শুনতে পারেন।

৩. এছাড়া “রুকইয়াহ যিনা” নামক রুকইয়ার অডিওটি, সূরা ইউসুফ এবং সূরা নূর এক্ষেত্রে বেশ উপকারি। জাদুর সমস্যা প্রকট অথবা বেশিদিনের পুরোনো হলে কিংবা সাথে জিনের সমস্যাও আছে মনে হলে এই রুকইয়া গুলোও শুনবেন। সম্ভব হলে নিজে কিছুটা তিলাওয়াত করবেন।

৪. এছাড়া সিহরের কমন রুকইয়ায় বলা বাকি পরামর্শগুলো অনুসরণ করবেন।

কোর্স কারুকুলাম

  • 0 chapters
  • 0 lectures
  • 0 quizzes
  • ৩০ Min total length
Toggle all chapters

ইনস্ট্রাক্টর

Super admin

পবিত্র কুরআন সুন্নাহ দ্বারাও এবিষয়গুলোর সত্যতা রয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে উল্টো আরো সমস্যায় পতিত হতে হয়। কারণ জাদুকর, বদ্য, গণক ইত্যাদি শয়তান জীনের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন শির্ক করে থাকে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের দিয়েও প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ ভাবে বিভিন্ন ধরনের শির্ক করিয়ে থাকে। এতে ঈমান ও আমল ধ্বংস হয় এবং শির্ক করার কারণে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হতে হয়।

তাই মহান আল্লাহ’র একমাত্র সন্তুষ্টির জন্য মানুষদেরকে এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

মহান আল্লাহ আমাদের এই সৎ চেষ্ঠাকে কবুল করুক এবং শির্ক এবং শয়তানি সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখুক এবং যারা অসুস্থ তাদেরক আপনার পবিত্র কালামুল্লাহ উছিলায় সুস্থতা দান করুন। আমিন

0 রেটিং
0 Reviews
0 শিক্ষার্থীরা
13 কোর্স

Course Full Rating

0

কোর্স রেটিং
(0)
(0)
(0)
(0)
(0)

রিভিউ পাওয়া যায়নি

সাইন ইন অথবা সাইন আপ রিভিউ পোস্ট করার জন্য ছাত্র হিসেবে

স্টুডেন্ট ফিডব্যাক

অবশ্যই আপনি পছন্দ করতে পারেন

Beginner
বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা
0 (০ রেটিং)
 √ বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদুর লক্ষণ১. স্বামী বাইরে থাকলে ভালো থাকে; কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করলেই দুজনের মাঝে কারও মেজাজ খারাপ হয়...
Beginner
বিয়ে বন্ধ/ভাঙ্গার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসা
0 (০ রেটিং)
বিয়ে বন্ধ/ভাঙ্গার যাদুর লক্ষণ ও চিকিৎসাবিয়ে ভাঙার জাদু কাউকে বিয়ে ভাঙা বা আটকে রাখার জন্য তাবীজ বা জাদু করলে সাধারণত...

You must be enrolled to ask a question

Students also bought

লেখক দ্বারা আরও কোর্স

Discover Additional Learning Opportunities