সহবাসে অক্ষম করার জাদু সহবাসে অক্ষম বলতে স্বামী অথবা স্ত্রীর যৌন মিলনে অক্ষমতা বোঝায়। তবে এরকম হালেই যে ধরে নিতে হবে, জাদু করা হয়েছে—বিষয়টা এমন নয়। বিশেষ কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা ছাড়াই সহবাসে অপারগ হলে তখন এতে জাদুর আশঙ্কা করা যেতে পারে। আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে ভালো জানেন। প্রথমে পুরুষের অক্ষমতা নিয়ে কথা বলা যাক। এই জাদুর সমস্যা সাধারণ পুরুষত্বহীনতা থেকে আলাদা। ছেলেরা এই জাদু দ্বারা আক্রান্ত হলে পুরুষের যৌনাঙ্গ অন্য সময় স্বাভাবিক থাকে; কিন্তু যখন সে স্ত্রীর কাছে আসে এবং সঙ্গম করতে চায় তখনই সে অক্ষম হয়ে পড়ে। অথবা এমন হয় যে, একাধিক স্ত্রী থাকলে অন্য স্ত্রীদের সাথে সঙ্গমে সফল হলেও নির্দিষ্ট কোনো স্ত্রীর সাথে অক্ষম হয়ে যায়। জাদুর কাজে নিয়োজিত শয়তান মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করে পুরুষকে অক্ষম করে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য কোনো সমস্যা না থাকলেও স্ত্রী সহবাসের সময় অপারগ হয়ে যায়। মেয়েরা যদি আক্রান্ত হয় তাহলে শয়তান তার মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে সেখান থেকে যৌন অনুভূতি ধ্বংস করে দেয়। ফলে সহবাসের সময় সে অনুভূতিহীন জড় পদার্থের মতো হয়ে যায়।
√ সহবাসে অক্ষমের জাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ পুরুষের ক্ষেত্রে :
১. বিয়ের পূর্বে সুস্থ থাকলেও বিয়ের পর ক্রমশ যৌন মিলনের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
২. সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর সাথে সহবাসে হঠাৎ অক্ষম হয়ে পড়ে।
৩. মিলনপূর্ব সময়ে স্বাভাবিক থাকলেও মিলনের সময় পুরুষাঙ্গ দুর্বল, নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
৪. সহবাসের সময় বা এর কিছুক্ষণ পূর্বেই যৌন অনুভূতি হারিয়ে ফেলে।
√ সহবাসে অক্ষমের জাদুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ নারীদের ক্ষেত্রে :
১. কুমারী মেয়েকে বিয়ের পর অকুমারী মনে হয়। এতে স্বামীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই জাদুর চিকিৎসা করে জাদু নষ্ট হওয়ার পর আর এমন মনে হয়না।
২. স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে আসতে অনিচ্ছা নিয়ে বাধা দেয়।
৩. সহবাসের সময় বা এর কিছুক্ষণ পূর্বেই যৌন অনুভূতি হারিয়ে ফেলে
৪. স্বামী কাছে আসতে চাইলে অনিচ্ছায় দুই উরু একত্রিত করে ফেলে।
৫. কেবল সহবাসের সময় জরায়ু থেকে রক্ত বের হয়। (এমনিতে জরায়ু থেকে রক্তক্ষরণ জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার একটি লক্ষণ।)
৬. সহবাসের সময় তার স্বামী যৌনাঙ্গের মধ্যে মাংসের প্রতিবন্ধকতা পায়, ফলে সহবাস সফল হয়না। এছাড়া উভয়ের ক্ষেত্রেই জিন-আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ মিলে যেতে পারে।
√ যৌন অক্ষমতার চিকিৎসা :
সহবাসে অক্ষম করার জাদুর জন্য রুকইয়াহ সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন চাইলে সাথে সূরা ফুরকানের ২৩নং আয়াত কয়েকবার পড়তে পারেন। আয়াতটি অন্যান্য জাদুর রুকইয়াহতেও বেশ উপকারী। এরপর নিচের চিকিৎসা নিজে অনুসরণ করুন অথবা রোগীকে অনুসরণ করতে বলুন। এক মাস পর অবস্থার আপডেট জানাতে বলুন, তখন আবার রুকইয়াহ করে দেখুন। যদি বোঝা যায় এখনো সমস্যা আছে তাহলে চিকিৎসা মেয়াদ বাড়িয়ে নিন।
√ চিকিৎসা :
সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আরাফ: ১১৭-১২২, সূরা ইউনুস: ৮১-৮২, সূরা
ত্বহা ৬১ এবং وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ
هَبَاءَ مَّنثُورًا
আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, এরপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত
ধূলিকণায় পরিণত করব। (সূরা ফুরকান, আয়াত: ২৩)
-এসব তিনবার করে পড়ুন।
এরপর সূরা আলাম নাশরাহ, সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস—সাত বার করে পড়ুন।পড়া
চলাকালে মাঝেমধ্যে পানিতে ফুঁ দিন।
১. দুই সপ্তাহ প্রতিদিন দুইবেলা এই পানি খাবেন। আর গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করবেন।
২. এর পাশাপাশি সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস-এর রুকইয়াহ আধঘণ্টা, যে কোনো কারীর সাধারণ রুকইয়াহ এবং সূরা ত্বরিক অন্তত একবার করে শুনবেন।
৩. এছাড়া সিহরের কমন রুকইয়ার বাকি সব পরামর্শ অনুসরণ করবেন। এভাবে এক সপ্তাহ রুকইয়াহ করলে ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে, তবে সরাসরি জিনের সমস্যা থাকলে একটু দেরি লাগতে পারে। যাহোক, সুস্থ হওয়ার পরও প্রতিদিনের মাসনূন জিকির এবং ফরয-ওয়াজিব আমল যেন গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়—এটা খেয়াল রাখতে হবে।
√ লক্ষণীয় বিষয় :
১. চাইলে শুরুতে তিনদিন বরই পাতার গোসল অথবা সাত দিনের ডিটক্স রুকইয়াহ করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ অনেক উপকার হবে। তবে পাশাপাশি রুকইয়াহ শোনা এবং বাকি পরামর্শগুলো যথাযথভাবে পালন করবেন।
২. এই জাদুর প্রভাবে অনেক সময় পুরুষের স্বাভাবিক যৌনক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তাই প্রয়োজনে রুকইয়ার পাশাপাশি দ্বীনদার ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। আর যৌন দুর্বলতা সাধারণ শারীরিক সমস্যার জন্য হওয়াও স্বাভাবিক, যেখানে জাদু বা জিনের কোনো হাত নেই। এক্ষেত্রেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
৩. শারীরিকভাবে যৌন দুর্বলতার চিকিৎসায় নিচের পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন— এক কেজি খাঁটি মধু এবং ২০০ গ্রাম দেশীয় রাণী মৌমাছির খাদ্য (রয়েল জেলি নামে প্রসিদ্ধ) নিন। তার ওপর সূরা ফাতিহা, সূরা আলাম নাশরাহ, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস সাত বার করে পড়ুন। এরপর এটা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তিন চামচ, দুপুরে ও রাতে খাবার পরে এক চামচ করে খেতে হবে। সুস্থতার নিয়তে এ পদ্ধতি এক বা দুই মাস চালিয়ে যেতে হবে। আর আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দুআ করতে হবে। আল্লাহ চাইলে এতেই যৌন দুর্বলতা থেকে আরোগ্য লাভ করবে ।
পবিত্র কুরআন সুন্নাহ দ্বারাও এবিষয়গুলোর সত্যতা রয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে উল্টো আরো সমস্যায় পতিত হতে হয়। কারণ জাদুকর, বদ্য, গণক ইত্যাদি শয়তান জীনের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন শির্ক করে থাকে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের দিয়েও প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ ভাবে বিভিন্ন ধরনের শির্ক করিয়ে থাকে। এতে ঈমান ও আমল ধ্বংস হয় এবং শির্ক করার কারণে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হতে হয়।
তাই মহান আল্লাহ’র একমাত্র সন্তুষ্টির জন্য মানুষদেরকে এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মহান আল্লাহ আমাদের এই সৎ চেষ্ঠাকে কবুল করুক এবং শির্ক এবং শয়তানি সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখুক এবং যারা অসুস্থ তাদেরক আপনার পবিত্র কালামুল্লাহ উছিলায় সুস্থতা দান করুন। আমিনরিভিউ পাওয়া যায়নি