এই জাদুতে আক্রান্ত হবার কিছু লক্ষণ
১. মানসিক অশান্তিতে থাকা। বিশেষত বিকেল থেকে মধ্যরাত।
২. বুকের মধ্যে শক্ত বা ভারি অনুভব হওয়া।
৩. সহজেই সবকিছু ভুলে যাওয়া। মন ভুলাব সমস্যা বেড়ে যাওয়া।
৪. মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা।
৫. ঘুমের মধ্যে অস্থিরতা থাকা, ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা।
৬. ঘুমালেও ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখা।
৭. হ্যালুসিনেশন বেড়ে যাওয়া।
এসবের পাশাপাশি জিন-আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ এবং জাদুর সাধারণ লক্ষণগুলোর সাথেও মিল পাওয়া যেতে পারে।
বাচ্চা নষ্ট করার জাদুর জন্য রুকইয়াহ
সাধারণ নিয়মে রুকইয়াহ করুন। চাইলে সাথে সূরা শুরার ৪৯ এবং ৫০ আয়াত পড়তে পারেন। আয়াতগুলো একটু পরেই বলা হয়েছে।
এরপর নিচের চিকিৎসা নিজে অনুসরণ করুন অথবা রোগীকে অনুসরণ করতে বলুন। এক মাস পর অবস্থার আপডেট জানাতে বলুন, প্রয়োজনে আবার রুকইয়াহ করে একই সাজেশন পুনরায় দিয়ে দিন অথবা কমবেশি করুন।
চিকিৎসা
১. সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, বাকারার শেষ রুকু, আলে-ইমরানের শেষ রুকু, ফালাক (৩বার), নাস (৩বার) পড়ে অলিভ অয়েল অথবা কালোজিরার তেলে ফুঁ দিন। এই তেল প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বুকে, কপালে এবং মেরুদণ্ডে মালিশ করবেন।
২. উল্লিখিত আয়াতগুলো পড়ে খাঁটি মধুতে ফুঁ দিন। এই মধু এক চামচ করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে।
৩. প্রতিদিন সকালে সূরা সফফাত পড়বেন, নইলে অন্তত শুনবেন। প্রতিদিন রাতে সূরা মূলক এবং মাআরিজ পড়বেন, নইলে শুনবেন।
৪. কোনো কারীর সাধারণ রুকইয়াহ প্রতিদিন অন্তত দুই-আড়াই ঘণ্টা এবং সূরা মারইয়াম একবার শুনবেন। শরীরের ব্যাথা বেশি হলে সাথে ৮ সূরার রুকইয়াহ শুনতে পারেন।
৫. আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফু দিয়ে প্রতিদিন খেতে এবং গোসল করতে পারেন। তবে গর্ভে সন্তান থাকাবস্থায় রুকইয়াহ শোনা, পানি খাওয়া, গোসল করা এসব কিছুটা ঝুকিপূর্ণ কাজ। তাই সেসময় এগুলো না করাই ভাল।
৬. প্রতিদিন অন্তত ৭০ বার ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়বেন। এরচেয়ে বেশি পড়লে আরও ভালো।
৭. সহবাসের পূর্বে দুআ পড়বেন-
আল্লাহ্র নামে, হে আল্লাহ্, আমাদের শয়তানকে রেহাই দাও এবং শয়তানকে তুমি যা দিয়েছ তার জবাব দাও।
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইতা- না, ওয়া জান্নিবিশ-শাইতানা মা রাযাকতানা।
৮. এছাড়া সিহরের কমন রুকইয়ার বাকি সব পরামর্শ অনুসরণ করবেন।
লক্ষণীয় বিষয়
১। সমস্যা ভালো হতে ৩-৪ মাস কিংবা আরও বেশি সময় লাগতে পারে। ধৈর্য ধরে রুকইয়াহ করে যেতে হবে। রুকইয়ার সময় কষ্ট হলেও একদম বাদ দিয়ে দেবেন না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর পরামর্শগুলো দ্রষ্টব্য।
২। কয়েকদিন রুকইয়াহ করেই যদি ভালো বোধ হয় তখন রুকইয়াহ করা বাদ দিয়ে দেবেন না। সমস্যা চলে যাওয়ার পরে কমপক্ষে এক মাস পর্যন্ত রুকইয়াহ চালিয়ে যান।
৩। এই সমস্যায় রুকইয়াহ তো করবেনই, কিন্তু মেডিকেল টেস্টে যদি এ-সংক্রান্ত কোনো অসুখ ধরা পড়ে তাহলে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাবেন।
৪। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, জিন-জাদু বা কোনো শারীরিক সমস্যার কারণ ছাড়াও বাচ্চা না হতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই, তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুরুষ দান করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা জীবাণুমুক্ত করেন إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ (٥٠) "নভোমণ্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা- সন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দেন। অথবা তাদের পুত্র ও কন্যা দুটোই দান করেন। আর তিনি যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।"
এ ক্ষেত্রে কর্তব্য হচ্ছে, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থেকে সবর করা এবং নেক সন্তান চাইতে থাকা। আর অবশ্যই অনর্থক মানত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। স্মত্য, মানত কখনো ভাগ্য পরিবর্তন করে না।
পবিত্র কুরআন সুন্নাহ দ্বারাও এবিষয়গুলোর সত্যতা রয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে উল্টো আরো সমস্যায় পতিত হতে হয়। কারণ জাদুকর, বদ্য, গণক ইত্যাদি শয়তান জীনের মাধ্যমে এই কাজ গুলো করতে গিয়ে বিভিন্ন শির্ক করে থাকে এবং ভুক্তভোগী রোগীদের দিয়েও প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ ভাবে বিভিন্ন ধরনের শির্ক করিয়ে থাকে। এতে ঈমান ও আমল ধ্বংস হয় এবং শির্ক করার কারণে দুনিয়া এবং আখিরাতে লাঞ্চিত হতে হয়।
তাই মহান আল্লাহ’র একমাত্র সন্তুষ্টির জন্য মানুষদেরকে এই বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মহান আল্লাহ আমাদের এই সৎ চেষ্ঠাকে কবুল করুক এবং শির্ক এবং শয়তানি সমস্ত কাজ থেকে দূরে রাখুক এবং যারা অসুস্থ তাদেরক আপনার পবিত্র কালামুল্লাহ উছিলায় সুস্থতা দান করুন। আমিনরিভিউ পাওয়া যায়নি