মাসনূন আমল
✓✓✓ জাদুটোনা, জিন এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়
যারা পূর্বে আক্রান্ত হয়েছেন তারা তো বটেই, এছাড়াও আমাদের সবার জাদু এবং জিন- শয়তানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিখিয়ে দেওয়া আমলগুলো যত্নসহকারে করা উচিত। এগুলোকে মাসনূন আমল অর্থাৎ সুন্নাহ থেকে নেওয়া আমল বলা হয়। এসবের অসাধারণ সব উপকারিতার পাশাপাশি কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন: আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার অভ্যাস গড়ে উঠবে, সুন্নাহ অনুসরণের ফ্যীলত পাওয়া যাবে, আর প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সওয়াব আপনার আমলনামায় অবশ্যই জমা হবে।
সারা দিনের, বিশেষত সকাল-সন্ধ্যার ফযীলতপূর্ণ অনেক দুআ ও যিকির হাদীসে আছে, সবকিছু তো এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়; তা প্রাসঙ্গিকও নয়। আমরা এখানে বিভিন্ন ক্ষতি থেকে হেফাজতের কিছু মাসনূন আমল এবং দুআ নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহ চাইলে এগুলো আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। এসবের পাশাপাশি পূর্বে আলোচিত বদনজর থেকে বাঁচার উপায় এবং জিনের ক্ষতি বাঁচার উপায়গুলো দেখা যেতে পারে।
এ ছাড়া অন্যান্য মাসনূন আমলের জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থের (যেমন: হিসনে হাসীন, হিসনুল মুসলিম, সিলাহুল মুমিন, আযকারে মাসনূনাহ, নবীজির দুআ ইত্যাদির) সহায়তা নিতে পারেন।
আর খেয়াল রাখার বিষয় হচ্ছে, নিজে আমল করলে যত বেশি সম্ভব করবেন। তবে জিন বা জাদুর রোগীকে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার সময় অনেক অনেক আমল চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নাই। অল্প কিছু করুক। (যেমন: শুধু তিন কুল এবং আয়াতুল কুরসীর আমল) তবে ধারাবাহিকতা যেন ধরে রাখে এবং সবসময় যেন করে।
✓✓✓ এখানে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার—
- আল্লাহর ওপর নিখাদ ভরসা এবং বিশ্বাস রাখা। এটা মাসনূন আযকারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেছেন—
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَيكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ“যারা ঈমান আনে এবং ঈমানের সাথে শিরক মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।
)
- অদ্ভুত এবং আজব সব ওযীফা থেকে দূরে থাকা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রচুর দুআ এবং যিকির বর্ণিত হয়েছে। আপনি যদি শুধু মাসনূন দুআ এবং যিকিরগুলো করা শুরু করেন, আমার মনে হয় না, প্রতিদিন সবগুলো আপনি শেষ করতে পারবেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ছোট-ছোট দুআর ফযীলত তো
অন্য কিছুর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং এগুলোর লাভ আরও বেশি। তাহলে বিরাট
বিরাট আজগুবি ওযীফা পড়ার দরকারটা কী!
- সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমের আগের আমলগুলো পারতপক্ষে যেন বাদ না যায়—এর প্রতি সচেষ্ট থাকবেন। আর মেয়েদের পিরিয়ডের সময় কুরআন তিলাওয়াত বাদে অন্যান্য দুআ পড়তে তো কোনো সমস্যা নেই।
একটা কাজ করা যেতে পারে, কুরআনের আয়াত পড়তে হয় এমন মাসনূন আমলগুলো পূর্বেই ফোনে রেকর্ড করে রাখুন, পরে বিশেষ সময়গুলোতে রেকর্ডটা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। শাইখ ওয়াহিদ আব্দুস সালাম এমন পরামর্শ দিয়েছিলেন।
যদি কখনো ভুলেও মাসনূন আমল বাদ পড়ে তাহলে মনে পড়ার সাথে সাথেই আদায় করে। নেবেন। সেটা এক ঘণ্টা পরে মনে পড়ুক, অথবা মাঝরাতেই মনে পড়ুক।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمٰنِ نُقَيِّضُ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَلَهُ قَرِينٌ
“যে ব্যক্তি দয়াময়ের যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিযুক্ত করে দিই। এরপর সেই হয় তার সঙ্গী।"
সুতরাং শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের যিকরগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া
খুব জরুরি।
✓✓✓ সকাল-সন্ধ্যার আমল
- বিষ, জাদু এবং অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার
পড়ুন-أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আ'উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা খালাকা। অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের দ্বারা যাবতীয় সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি ।
- সব ধরনের ক্ষতি এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার
পড়া—
“উসমান ইবনু আফফান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনের মধ্যে সকালবেলা এবং রাতের মধ্যে সন্ধ্যাবেলা তিনবার বলবে- بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ
العليم
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হিল্লাযি লা-ইয়াদুররু মা আসমিহি শাইউং ফিলআরদি ওয়ালা ফিসসামাই,
ওয়াহওয়াস সামিউল আলীম। অর্থ: আল্লাহ্র নামে, যার নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।' কোনো কিছু তার ক্ষতি করবে না।
- সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিন বার করে পড়া। “আব্দুল্লাহ ইবনু খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক বর্ষণমুখর অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুঁজতে বের হলাম, যেন তিনি আমাদের নিয়ে সালাত পড়েন। তার সাথে যখন সাক্ষাৎ হলো, তিনি বললেন, '' (বলো)। আমি নিশ্চুপ থাকলাম। তিনি আবার বললেন, '' আমি নিশ্চুপ থাকলাম। তিনি আবার বললেন, আমি তখন বললাম, আল্লাহর রাসূল, কী বলব? তিনি বললেন, 'কুল হওয়াল্লাহু আহাদ' এবং 'মুয়াওয়াযাতাইন' (অর্থাৎ সূরা ফালাক ও নাস) সকালে ও সন্ধ্যায়—তিনবার। এটা সব কিছু থেকে তোমার হেফাজতের জন্য যথেষ্ট হবে।
- এই আয়াতটি সকাল-সন্ধ্যায় সাত বার পড়া।
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় সাতবার পাঠ করবে— حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ উচ্চারণ: হাসবিইয়াল্লহু লা ইলাহা ইল্লা-হু আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুওয়া রব্বুল আরশিল আযীম।
অর্থ; ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।' আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজনে যথেষ্ট হয়ে যাবেন।”””
- জিন-শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রতিদিন একশ বার; কোনো দিন সম্ভব না হলে অন্তত সকাল-সন্ধ্যায় দশ বার পড়ুন-
لا إله إلا الله ، وحده لا شريك له ، له الملك ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلى كل شيء قدير
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ ওয়াহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি দিনে একশ বার এ দুআটি পড়ে-
لا إله إلا الله ، وحده لا شريك له ، له الملك ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كل شيء قدير
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ, ওয়াহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
অর্থ: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক, তার কোনো শরীক নেই। তারই রাজত্ব, প্রশংসা তারই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী।' তাহলে
তার দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব হবে। তার জন্য একশটি সওয়াব লেখা হবে
এবং একশটি গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। সেই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে
হেফাজতে থাকবে। আর কোনো লোক তার চেয়ে উত্তম সওয়াব অর্জনকারী হবে না। তবে
কেউ যদি তার চেয়েও বেশি পড়ে, সে ব্যতীত।"
ফযীলত
অনেক বেশি বর্ণিত। তাই আপনি চেষ্টা করবেন একশবার পড়তে। যদি কোনো দিন না
পারেন, তবে সকাল-সন্ধ্যায় ১০ বার করে হলেও পড়বেন। আপনি চাইতে সহ দিন মিলিয়ে
১০০ বার পড়তে পারেন, অথবা এক সাথে পড়ে ফেলতে পারেন। তবে ইমাম নববী রহ. সহ
অনেকের মত হচ্ছে, এটা সকালেই একশ বার পড়ে ফেলা উচিত তাহলে এটা সারাদিন
হেফাজতের জন্য ঢাল হবে। বিশেষত কেউ জিন বা জাদুতে আক্রান্ত হলে তাকে ফজর বা
মাগরিব পর ১০০ বার করে পড়তে বলা হয়।
✓✓✓ ঘুমানোর সময়ের আমল
***ওযু করে ঘুমানো। তাহলে ফিরিশতারা হেফাজতের জন্য দুআ করতে থাকে। ডান কাত হয়ে ঘুমানো। এমনিতেও সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা সুন্নাত।**
*** শোয়ার পূর্বে কোনো কাপড় বা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। এবং বিছানায় শোয়ার পর দুআ পড়া
"বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করল, আবার ঘুমাতে ফিরে এল, সে যেন তার চাদর, লুঙ্গি বা আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি কেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়)। কারণ, সে জানে না, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে। তারপর সে যখন শোয়, তখন যেন বলে-
باسمك ربي وضعت جنبي ، وبك أرفَعُهُ ، فَإِن أَمْسَكَتَ نَفْسِي فارحمها ، وإن أرسلتها فاحفظها ، بما تحفظ به عبادك الصالحين
উচ্চারণ: বিসমিকা রব্বি ওয়াদা'তু জাম্বি, ওয়াবিকা আরফা'উহু। ফাইন আমসাকতা নাফিস ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা-তাহফায়ু বিহি 'ইবা-দাকাস সা-লিহীন। অর্থ: আমার রব, আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ (বিছানায়) রেখেছি এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা ওঠাব। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন তাহলে আপনি তার
***আয়াতুল কুরসী পড়া।
ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ক্ষেক নিযুক্ত হয়। ফলে সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারে না।
*** সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া।
"আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য তা হথেষ্ট হবো
এ সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে এরপর পুরা শরীরে হাত বুলিয়ে নিন। এটা তিন বার করুন।
"আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন রাতে যখন বিছানায় আসতেন তখন দুই হাত একত্র করতেন এবং সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিতেন, এরপর যতদূর হাত যায় শরীরে বুলিয়ে নিতেন। এভাবে তিনবার
করতেন।
দ্রষ্টব্য উল্লেখিত যিকিরগুলো শেষে কেউ যদি হিফাজতের জন্য আরও আমল করতে চান,
তবে সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পড়তে পারেন।
১. সূরা বাকারার ১-৫ আয়াত।
২. আয়াতুল কুরসী এবং পরের আয়াত।
৩. সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত।
৪. এছাড়া গ্রন্থের শেষে উল্লেখিত রুকইয়ার দোয়াগুলোর প্রথম দুইটি তিনবার করে এবং
১৩ থেকে ১৭নং দুআগুলো একবার করে পড়তে পারেন।
***ঘুমের সময় উল্লেখিত আমলগুলোর সাথে চাইলে এই দুআটি পড়তে পারেন-
اللهم
رب السموات السبع ورب الأرض ، ورب العرش العظيم ، ربنا ورب كل شيء . فالق
الحب والنوى، ومنزل التوراة والإنجيل . و الفرقان ، أعوذ بك من شر كل شيء
أنت أخذ بناصيتها
হে
আল্লাহ! হে সাত আসমানের রব, জমিনের রব, মহান আরশের এব, আমাদের রব ও
প্রত্যেক বস্তুর রব, হে শস্যবীজ ও আটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজিল ও
কুরআন নায়িলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয়
প্রার্থনা করছি, যাদের আপনি নিমন্তর কাছেন।
✓✓✓ অন্যান্য সময়ের আমল
১. সম্ভব হলে নদীনার আজওয়া খেজুরের ব্যবস্থা করা, না পেলে যেকোনো আজওয়া খেজুর খাওয়া।
"রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর সকাল বেলায় আহার করবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ ও জাদু ক্ষতি করতে পারবে না।
২) টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে দুআ পড়া-
"আনাস ইবনু মালিক রা. বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শৌচাগারে প্রবেশের কালে এই দুআটি বলতেন।
اللهم إني أعوذ بك من الحنث والحيات
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ'উযুবিকামিনাল খুরসি ওয়াল খাবা-ইছ।
অর্থ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি খারাপ পুরুষ ও মহিলা জিন
থেকে।
৩) বিয়ের পর স্ত্রীর কাছে গিয়ে দুআ পড়া-
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ে করে অথবা কোনো দাসী ক্রয় করে তখন যেন সে বলে,
اللهم إني أسألك خيرها وخير ما جبلتها عليه ، وأعوذ بك من
شرها وشر ما جبلتها عليه
আল্লাহম্মা
ইস আসআলুকা ঘইহা আগইরান হবাদবহ অবইই 'আউজুবিকা মিন শারবিহা আা শাররি মা
জবাদতহ বইই অর্থ 'হে আল্লাহ, আদি আপনার কহে এর মধ্যকার কল্যাণ এবং এর নামে
কল্যাণ এই এবা তার মধ্যে নিহিত অকল্যাণ ও তার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আপনার
নিকট আশ্রয় চাই।। হাদীসটি বর্ণনাকারী অনুযাঈদ বা এর সাথে আরও উল্লেখ
করেছেন, এরপর সে যেন হীর কপালের চুল স্পর্শ করে তার জন্য বরকতের দুআ করে।"-
৪) স্ত্রী সহবাসের পূর্বে দুআ পড়া।
"রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইধি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি তার
স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে বলে।
بسم الله ، اللهم جنبنا الشيطان، وجنب الشيطان ما رزقتنا উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহ আল্লা-হুম্মা সান্নিবনাশ শাইতা-না, ওরা জান্নিবিশ শাইতানা মা
রাযাকতানা।
অর্থ। আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ, আমাদের শয়তান থেকে রক্ষা করো, আর আমাদেরকে
বা দান করবে, তাকেও শয়তান দেখে দূরে রাখো।'
এরপর এই মিলনের দ্বারা যদি তাদের ভাগ্যে সম্ভ্রম থাকে তাহলে শয়তান কখনো তার
ক্ষরি করবে না।
৫) মসজিদে প্রবেশের দুআ পড়া-
أعوذ بالله العظيم ويوجهه الكريم وسلطانه القَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ
الرحيم
উচ্চারণ আ'উযুবিল্লাহিল আযীম ওয়াবি ওমাজাহিছিল কারীম ওরা সুলতানিছিল এণীম
মিনাশ শাইত্বনির রাজীম।
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মসজিদে প্রবেশের সময় কেট এটা
পড়লে শয়তান বলে, এই ব্যক্তি আজ সারাদিনের জন্য আমার থেকে রক্ষা পেরে গেল।
৬ নতুন কোনো জায়গায় বা বাড়িতে গেলে অথবা কোনো গা ছামছমে জায়গায় হাঁটলে দুআ
পড়া-
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো জায়গায় অবতরণ করার পর বলবে,
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আ'উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-স্মা-তি, মিং-শাবরি মা-খালাক।
'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের দ্বারা যাবতীয় সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।' এই জায়গা ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছু তার ক্ষতি করবে না।"
৭. বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দুআ পড়া-
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলবে,
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু 'আলাল্লাহি লা-হাওলা ওয়ালা-কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-হ। অর্থ: 'আল্লাহ তাআলার নামে। আমি আল্লাহ তাআলার ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর ব্যতীত কারও সাধ্য বা শক্তি নেই।' তবে তাকে বলা হয় (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট। তুমি (অনিষ্ট থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত হয়েছ। আর শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।"
Super admin